Skip to content
Home » হযরত যাহয়া (আঃ) পথ প্রস্তুত করেন

হযরত যাহয়া (আঃ) পথ প্রস্তুত করেন

  • by

সূরা আল-আন’আম (সূরা ৬ =গবাদি পশু সম্পত্তি) আমাদের বলে যে আমাদের ‘অনুতাপ’ করা দরকার I এটি বলে,

 আর যখন তারা আপনার কাছে আসবে যারা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে, তখন আপনি বলে দিনঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের পালনকর্তা রহমত করা নিজ দায়িত্বে লিখে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়।

সুরাহ আল-আন’আম ৬:৫৪

অনুতাপ কি? সুরাহ হুদে কয়েকটি আয়াত (সূরা ১১ -হুদ) আমাদের বলে 

আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি।

সূরা হুদ ১১: ৩

আর হে আমার কওম! তোমাদের পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না।

সূরা হুদ ১১:৫২

আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই। তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চল আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই।

সূরা হুদ ১১:৬১

আর তোমাদের পালনকর্তার কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে ফিরে এসো নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান অতিস্নেহময়।

সূরা হুদ ১১:৯০

দোষ স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে আল্লাহর ‘দিকে ফেরা’ হল অনুতাপ I হযরত যাহয়া (আঃ) ইঞ্জিলের মধ্যে অনুতাপ সম্বন্ধে অনেক কিছু বলেছেন যা আমরা এখানে দেখি I

আমরা দেখলাম যে হযরত মালাখি (আঃ) এর দ্বারা যাবুর সম্পন্ন হ’ল যিনি ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে কেউ একজন ‘পথ প্রস্তুত করতে’ আসবে (মালাখি ৩:১) I তারপরে আমরা দেখলাম হযরত যাহয়া (আঃ) এবং মসীহর (এবং তিনি এক কুমারীর থেকে) জন্ম সম্বন্ধে জিব্রিলের দ্বারা ঘোষণার সাথে ইঞ্জিল কিভাবে উন্মুক্ত হ’ল I    

হযরত যাহয়া (আঃ) – ভাববাদী এলিয়র আত্মা এবং পরাক্রমে

ইঞ্জিল (সুসমাচার) তখন তার জন্মের পরে যাহয়া (এছাড়াও বাপ্তিস্মদাতা যোহন – আঃ বলে পরিচিত) সম্বন্ধে সেটিকে নথিভুক্ত করে: 

 ৮০ পরে শিশুটি বড় হয়ে উঠতে লাগল এবং আত্মায় শক্তিশালী হতে লাগল আর সে ইস্রায়েলের জাতির কাছে প্রকাশিত হওয়ার আগে পর্যন্ত মরুপ্রান্তে জীবন যাপন করছিল।

লুক ১:৮০

যখন তিনি প্রান্তরে একাকী থাকতেন সুসমাচার সেটিকে নথিভুক্ত করে:

৪ যোহন উটের লোমের কাপড় পরতেন, তাঁর কোমরে চামড়ার বেল্ট ও তাঁর খাবার পঙ্গপাল ও বনমধু ছিল।

মথি ৩:

যাহয়ার (আঃ) শক্তিশালী আত্মা তাকে প্রান্তরের মধ্যে অমসৃণ ধরণের পোষাক পড়তে এবং বন্য খাদ্য খেতে চালিত করল I তবে এটি কেবলমাত্র তার আত্মার কারণে নয় – বরং এটি একর্টি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নও ছিল I যাবুরের সমাপ্তিতে আমরা দেখলাম যে প্রস্তুতকারী যাকে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ‘এলিয়র আত্মায়’ আসবেন I এলিয় যাবুরের আদি নবি ছিলেন যিনি আবারও প্রান্তরে থাকতেন এবং খেতেন এবং একটি:

লোমের পোশাক পরতেন এবং কোমরের চারিদিকে চামড়ার পটুকা বাঁধা থাকত

২ রাজাবলি ১:৮

তাই যাহয়া (আঃ) যখন জীবনযাপন করতেন ও পোশাক পরতেন সেইভাবে তিনি করতেন, এটি ইঙ্গিত করত যে তিনিই ছিলেন আসন্ন প্রস্তুতকারী যার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিলে যে তিনি এলিয়র আত্মায় আসবেন I তার পোশাক, এবং তার জীবনযাপন এবং প্রান্তরের মধ্যে খাওয়া প্রদর্শিত চিহ্ন সমূহ ছিল যে তিনি আল্লাহর ভবিষ্যদ্বাণী করা পরিকল্পনার মধ্যে এসেছেন।  

ইঞ্জিলটি – ইতিহাসের মধ্যে সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত

তারপরে ইঞ্জিল আমাদের বলে যে:

১ তিবিরিয় কৈসরের রাজত্বের পনেরো বছরে যখন পন্তীয় পীলাত যিহুদিয়ার শাসনকর্ত্তা, হেরোদ গালীলের রাজা, তাঁর ভাই ফিলিপ যিতূরিয়া ও ত্রাখোনীতিয়া অঞ্চলের রাজা এবং লূষানিয় অবিলীনির রাজা,
২ তখন হানন ও কায়াফার মহাযাজকদের দিন ঈশ্বরের এই বাণী মরূপ্রান্তে সখরিয়ের পুত্র যোহনের কাছে উপস্থিত হল।

লুক ৩:১-২

এই বিবৃতিটি যাহয়ার (আঃ) ভবিষ্যদ্বাণীমূলক সেবাকার্য়ের সূচনা করে আর এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু ইতিহাসের অনেক নামী শাসকদের পাশে এটিকে স্থাপনের দ্বারা তার সেবাকার্যের সুচনাকে চিহ্নিত করে I সেই সময়ের শাসকদের এই ব্যাপক উল্লেখকে লক্ষ্য করুন I সুসমাচার গুলোর মধ্যে বিবরণের নির্ভুলতার অনেকটা ঐতিহাসিকভাবে যাচাই করতে এটি আমাদের অনুমতি দেয় I আপনি যদি তা করেন, আপনি দেখবেন যে তিবরিয় কৈসর, পন্তিয়াস পীলাত, হেরোদ ফিলিপ, লুষাণিয়, হানন এবং কায়াফা সকলে ধর্মনিরপেক্ষ রোমীয় থেকে নিয়ে ইহূদি ঐতিহাসিকদের মধ্যে পরিচিত ছিলেন I এমনকি বিভিন্ন শিরোনাম যা বিভিন্ন শাসকদের দেওয়া হয় (যেমন, পন্তিয়াস পীলাতের জন্য ‘দেশাধক্ষ্য’ হেরোদের জন্য ‘টেটাযার্চ, ইত্যাদি) ঐতিহাসিকভাবে সঠিক ও নির্ভুলভাবে যাচাই করা হয়েছে I এটি আমাদের মূল্যায়ন করতে অনুমতি দেয় যে একটি খাঁটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটিকে নির্ভরযোগ্যভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল I        

তিবরিয় কৈসর ১৪ খ্রীষ্টাব্দে রোমীয় সাম্রাজের সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন I সুতরাং এটি তার রাজত্বের পঞ্চদশ বছর হওয়ার অর্থ হ’ল যে যাহয়া ২৯ খ্রীষ্টাব্দের বছরের শুরুতে বার্তা পেলেন I  

যাহয়ার বার্তা – অনুতাপ এবং দোষ স্বীকারোক্তি 

তাহলে বার্তাটি কি? তার জীবন-শৈলী অনুযায়ী, তারা বার্তাটি সরল ছিল, তবে সরাসরি এবং ক্ষমতাশালী I ইঞ্জিল বলে যে:

 ১ সেই দিনের যোহন বাপ্তিষ্মদাতা উপস্থিত হয়ে যিহূদিয়ার প্রান্তরে প্রচার করতে লাগলেন;
২ তিনি বললেন, মন ফেরাও, কারণ স্বর্গরাজ্য নিকটে।

মথি ৩:১-২

অতএব তার বার্তার অংশটি একটি প্রকৃত ঘটনার ঘোষণা ছিল – যে স্বর্গ রাজ্য ‘সন্নিকট’ ছিল I আমরা দেখেছি কিভাবে যাবুরের ভাববাদীরা বহু পূর্বে আসন্ন ‘ঈশ্বরের রাজ্যের’ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I যাহয়া (আঃ) এখন বলছিলেন যে এটি হাতের কাছে ‘নিকটস্থ’ ছিল I

তবে ‘অনুতাপ না করা’ পর্যন্ত লোকেদের রাজ্যের জন্য প্রস্তুত করা যাবে না I প্রকৃতপক্ষে, তারা যদি অনুতাপ না করে তবে তারা এই রাজ্যকে হারাবে I  অনুতাপ করা মানে “আপনার মনকে পরিবর্তন করুন; পুনর্বিবেচনা করুন; বা ভিন্নভাবে চিন্তা করুন I কিন্তু কিসের সম্বন্ধে তাদের ভিন্ন ভাবে চিন্তা করার  ছিল? যাহয়ার (আঃ) বার্তার প্রতি লোকেদের দুটি প্রতিক্রিয়া সমূহকে দেখে আমরা শিখতে পারি যে তিনি কি নির্দেশ দিচ্ছিলেন যে সেগুলো থেকে তাদের অনুতাপ করা উচিত I ইঞ্জিল তার বার্তার প্রতি লোকেদের প্রতিক্রিয়া এর দ্বারা নথিভুক্ত করে: 

৬ আর নিজের নিজের পাপ স্বীকার করে যর্দ্দন নদীতে তাঁর মাধ্যমে বাপ্তাইজিত হতে লাগল। 

মথি ৩:

আপনাদের হয়ত মনে আছে আদমের জন্য চিহ্নর বই সমূহের মধ্যে, কিভাবে তারা আদম এবং হবা নিষিদ্ধ ফল খেল:

পরে তাঁরা সদাপ্রভু ঈশ্বরের রব শুনতে পেলেন, তিনি দিনের রবেলায় বাগানে চলাফেরা করছিলেন; তাতে আদম ও তাঁর স্ত্রী সদাপ্রভু ঈশ্বরের সামনে থেকে বাগানের গাছ সকলের মধ্যে লুকালেন।

দিপুস্তক ৩:

তখন থেকেই আমাদের পাপগুলো আড়াল করার এই ঝোঁক এবং আমরা এগুলো করিনি বলে তা ভান করার প্রবণতা আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক I আমাদের পাপের স্বীকারোক্তি এবং অনুতাপ করা আমাদের জন্য প্রায়ই অসম্ভব I আমরা কুমারীর পুত্রের চিহ্নর মধ্যে দেখলাম যে দাউদ (আঃ) মোহম্মদের (সাঃ) ন্যায় ভাববাদীগণ তাদের পাপ সমূহ স্বীকার করতেন I সেটি আমাদের পক্ষে করা খুবই কঠিন কারণ এটি আমাদের অপরাধ এবং লজ্জাকে প্রকাশ করে – কিন্তু এটি ছাড়া অন্য যে কোনো কিছু করতে আমরা পছন্দ করব I তবে এটাই তাই যা যাহয়া (আঃ) প্রচার করলেন যে ঈশ্বরের আসন্ন রাজ্যের জন্য লোকেদের নিজেদের প্রস্তুত করা দরকার I

ধার্মিক নেতাদের প্রতি সতর্কবাণী যারা অনুতাপ করত না

আর কিছু বাস্তবিকই এটি করত, কিন্তু সকলে সৎভাবে স্বীকার করত না এবং তাদের পাপ সমূহের স্বীকারোক্তি করত না I ইঞ্জিল বলে যে:

৭ কিন্তু অনেক ফরীশী ও সদ্দূকী বাপ্তিষ্মের জন্য আসছে দেখে তিনি তাদের বললেন, হে বিষাক্ত সাপেদের বংশেরা, আগামী কোপ থেকে পালাতে তোমাদের কে চেতনা দিল?
৮ অতএব মন পরিবর্তনের যোগ্য ফলে ফলবান হও।
৯ আর ভেবো না যে, তোমরা মনে মনে বলতে পার, অব্রাহাম আমাদের পিতা; কারণ আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বর এই সব পাথর থেকে অব্রাহামের জন্য সন্তান তৈরী করতে পারেন।
১০ আর এখনই গাছ গুলির শিকড়ে কুড়াল লাগান আছে; অতএব যে কোন গাছে ভালো ফল ধরে না, তা কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া যায়।

মথি ৩:৭-১০

ফারিসী এবং সদ্দূকীগণ মশির ব্যবস্থার শিক্ষক ছিলেন I তারা অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন এবং ব্যবস্থা দ্বারা নির্দেশিত সমস্ত ধর্মানুষ্ঠানগুলো (প্রার্থনা, উপবাস, বলিদান ইত্যাদি) পালন করতে কঠোর পরিশ্রম করতেন I প্রত্যেকে ভাবত যে এই নেতারা, তাদের সমস্ত ধার্মিক শিক্ষা এবং প্রচেষ্টার সাহায্যে এমন ব্যক্তি ছিল যারা অবশ্যই আল্লাহর দ্বারা মনোনীত হয়েছিল I কিন্তু ভাববাদী যাহয়া (আঃ) তাদেরকে এক ‘সাপের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করতেন এবং তাদেরকে আগুনের আসন্ন বিচার সম্বন্ধে সতর্ক করতেন! কেন? কারণ ‘অনুতাপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফল উৎপন্ন’ না করার দ্বারা এটি দেখালো যে তারা প্রকৃতপক্ষে অনুতাপ করে নি I তারা তাদের পাপ স্বীকার করে নি বরং তাদের পাপ লুকোনোর জন্য তারা তাদের ধার্মিক অনুষ্ঠানগুলো ব্যবহার  করছিল I এবং হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) থেকে পাওয়া তাদের ধার্মিক ঐতিহ্য, যদিও এটি ভাল ছিল, তাদেরকে বরং অনুতাপ করার বদলে অহংকারী করে তুলেছিলI 

দাউদের দোষ স্বীকার আমাদের উদাহরণস্বরূপ

অতএব আমরা হযরত যাহয়ার সতর্কবাণী থেকে দেখি যে অনুতাপ এবং পাপের স্বীকারোক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ I প্রকৃতপক্ষে এটা ছাড়া আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করব না I আর সেই দিনের ফারিসী এবং সদ্দূকীদের প্রতি ওই সতর্কবাণীগুলো থেকে আমরা দেখতে পারি ধর্মের মধ্যে আমাদের পাপ্ লুকিয়ে রাখা কতটা সহজ এবং স্বভাবিক I অতএব আপনাদের এবং আমার কি হবে? আমাদের জন্য সতর্কবাণী রূপে এখানে এটিকে নথিভুক্ত করা হয়েছে যাতে আমরাও একগুঁয়েভাবে অনুতাপ করতে অস্বীকার না করি I আমাদের পাপের জন্য অজুহাত তৈরী করার পরিবর্তে, ভান করি যে আমরা পাপ করি না, বা তাদেরকে লুকিয়ে রেখে দাউদের (আঃ) উদাহরণকে আমাদের অনুসরণ করা উচিত যখন তিনি পাপের সম্মুখীন হলেন তিনি যাবুরের নিম্নলিখিত স্বীকারোক্তির মধ্যে প্রার্থনা করলেন:

১তোমার নিয়মের বিশ্বস্ততার কারণে; তোমার দয়ার অনুসারে আমার অন্যায় ক্ষমা কর।
২ আমার অপরাধ থেকে আমাকে সম্পুর্ণরূপে ধৌত কর এবং আমার পাপ থেকে আমাকে পরিষ্কার কর।
৩ কারণ আমি আমার নিজে অপরাধগুলো সব জানি এবং আমার পাপ সবদিন আমার সামনে থাকে।
৪ তোমার বিরুদ্ধে, কেবল তোমারই বিরুদ্ধে আমি পাপ করেছি এবং তোমার দৃষ্টিতে যা মন্দ, তাই করেছি; তোমার বাক্যে ধর্মময়, তোমার বিচারে নির্দোষ।
৫ দেখ, অপরাধে আমার জন্ম হয়েছে; পাপে মধ্যে আমার মা আমাকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন।
৬ দেখ, তুমি আমার পাপ ধৌত কর, তুমি আমার হৃদয়ের মধ্যে জ্ঞানের শিক্ষা দেবে।
৭ এসোব দ্বারা আমাকে শুদ্ধ কর, তাতে আমি শুচি হব; আমাকে ধৌত করএবং তাতে আমি তুষারের চেয়ে সাদা হব।
৮ আমাকে উল্লাসের ও আনন্দের বাক্য শুনাও, তাই যে হাড়গুলো ভেঙেছে তা আনন্দিত হবে।
৯ আমার পাপ থেকে তোমার মুখ লুকাও এবং আমার সমস্ত পাপ মুছে ফেল।
১০ ঈশ্বর আমার মধ্যে একটি পরিষ্কার হৃদয়ে সৃষ্টি কর এবং আমার মধ্যে একটি সঠিক আত্মাকে নতুন কর।
১১ তোমার উপস্হিতি থেকে আমাকে দূরে করনা এবং তোমার পবিত্র আত্মাকে আমার থেকে নিয়ে নিওনা।
১২ তোমার পরিত্রানের আনন্দ আমাকে ফিরিয়ে দাও এবং ইচ্ছুক আত্মা দ্বারা আমাকে ধরে রাখ।

গীতসংহিতা ৫১:১-১২

অনুতাপের ফল

দোষ স্বীকার এবং অনুতাপের সাথে ভিন্নভাবে জীবনযাপন করার এক আশা উপস্থিত হ’ল I লোকেরা হযরত যাহয়া (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করল কিভাবে তাদের অনুতাপের ফলকে প্রদর্শন করা উচিত এবং এইভাবেই ইঞ্জিল আলোচনাকে নথিভুক্ত করে: 

১০ তখন লোকেরা বাপ্তিষ্মদাতা যোহনকে জিজ্ঞাসা করল, “তবে আমাদের কি করতে হবে?”
১১  তিনি এর উত্তরে তাদেরকে বললেন, “যার দুটি জামা আছে, সে, যার নেই, তাকে একটি দিক; আর যার কাছে খাবার আছে, সেও তেমন করুক।”
১২ আর কর আদায়কারীরাও বাপ্তিষ্ম নিতে আসল এবং তাঁকে বলল, “গুরু আমাদের কি করতে হবে?”
১৩  তিনি তাদের বললেন, “তোমাদের যতটা কর আদায় করতে আদেশ করা হয়েছে, তার বেশি কর আদায় করও না।”
১৪ আর সৈনিকেরাও তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “আমাদেরই বা কি করতে হবে?” তিনি তাদের বললেন, “কাউকে মিথ্যা দোষারোপ করো না, জোর করে কারোর থেকে টাকা নিওনা এবং তোমাদের বেতনে সন্তুষ্ট থাকো।”

লুক ৩:১০-১৪

যাহয়া কি মসীহ ছিলেন?

তার বার্তার শক্তির কারণে, অনেক লোকেরা আশ্চর্য হল যে সেই মসীহ কি  না I এইভাবেই ইঞ্জিল এই আলোচনাকে নথিভুক্ত করে I

১৫ আর যেমন লোকেরা খ্রীষ্টের আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল এবং তাই যোহনের বিষয়ে সকলে নিজেদের মনে এই ভেবে আশ্চর্য্য হচ্ছিল, কি জানি, হয়ত ইনিই সেই খ্রীষ্ট,
১৬  তখন যোহন তাদের বললেন, “আমি তোমাদেরকে জলে বাপ্তিষ্ম দিচ্ছি, কিন্তু এমন একজন আসছেন, যিনি আমার থেকেও শক্তিমান, যাঁর পায়ের জুতোর ফিতে খোলার যোগ্যতাও আমার নেই; তিনি তোমাদের পবিত্র আত্মা ও আগুনে বাপ্তিষ্ম দেবেন।
১৭ শস্য মাড়াইয়ের উঠোন পরিষ্কারের জন্য, তাঁর কুলো তাঁর হাতে আছে; তিনি যত্ন সহকারে বাছবেন ও গম নিজের গোলায় সংগ্রহ করবেন, কিন্তু তুষ যে আগুন কখনো নেভে না তাতে পুড়িয়ে ফেলবেন।”
১৮ আরও অনেক উপদেশ দিয়ে যোহন লোকেদের কাছে সুসমাচার প্রচার করতেন। 

লুক ৩:১৫-১৮

উপসংহার

হযরত যাহয়া (আঃ) লোকেদের প্রস্তুত করতে এসেছিলেন যাতে করে তারা ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য প্রস্তুত হবে I তবে তিনি তাদেরকে অধিক ব্যবস্থা দেওয়ার দ্বারা প্রস্তুত করেননি, বরং তাদের পাপের থেকে অনুতাপ করতে এবং তাদের পাপ স্বীকার করতে আহ্বানের দ্বারা প্রস্তুত করেছিলেন I প্রকৃতপক্ষে অধিকতর নির্দেশাবলী অনুসরণ করার চেয়ে এটি আরও কঠিন যেহেতু এটি আমাদের লজ্জা এবং অপরাধবোধকে প্রকাশ করে I এবং তখনকার দিনের ধার্মিক নেতাগণ ছিলেন যারা অনুতাপ করতে এবং তাদের পাপ স্বীকার করতে নিজেদেরকে আগে নিয়ে আসতে পারেননি I কিন্তু তাদের নিজস্ব পচ্ছন্দ অনুযায়ী তারা মসীহকে গ্রহণ করতে এবং স্বর্গ রাজ্যকে বুঝতে অপ্রস্তুত রয়ে গেল যখন তিনি তার বার্তা নিয়ে এলেন I হযরত যাহয়ার (আঃ) এই সতর্কবাণী আজকের দিনেও আমাদের কাছে একদম প্রাসঙ্গিক i তিনি দাবি করেন যে আমরা আমাদের পাপের থেকে অনুতাপ করি এবং তাদেরকে স্বীকার করি i আমরা করব কি?  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *