Skip to content
Home » সেই দিন: আল-কারেয়া ও আল-তাকাসূর এবং মসীহ

সেই দিন: আল-কারেয়া ও আল-তাকাসূর এবং মসীহ

  • by

সুরা আল-কারেয়া (সুরা ১০১ – বিপর্যয়) বিচারের আসন্ন দিনের এইভাবে বর্ণনা করে: 

২ করাঘাতকারী কি? ৩ করাঘাতকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন ? ৪ যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত ৫ এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত। ৬ অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, ৭ সে সুখীজীবন যাপন করবে। ৮ আর যার পাল্লা হালকা হবে, ৯ তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।

আল-কারেয়া ১০১:২-৯

সুরা আল-কারেয়া আমাদের বলে যে যাদের কাছে ভাল কাজের এটি ভারী ভারসাম্য আছে তারা বিচারের দিনে ভাল করতে আশা করতে পারে I  

তবে আমাদের মধ্যে তাদের সম্বন্ধে কি হবে যাদের ভাল কাজের ভারসাম্য হাল্কা?

সুরা আত-তাকাসূর (সুরা 102 – পৃথিবীতে প্রতিদ্বন্দিতা বাড়ছে) আমাদের সতর্ক করে

১ প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে ২ এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। ৩ এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। ৪ অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। ৫ কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে। ৬ তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে, ৭ অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে, ৮ এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।  

আত-তাকাসূর ১০২:১-৮

সুরা আল-তাকাসূর আমাদের বলে যে
নরকের আগুন বিচারের দিনে আমাদের হুমকি দেয় যখন আমাদের ‘প্রশ্ন’ করা হবে I   

আমাদের ভাল কাজের ভারসাম্য যদি হাল্কা হয়ে থাকে তবে আমরা কি সেই  দিনের
জন্য প্রস্তুত করতে পারি?

নবী ঈসা আল মসীহ আমাদের মধ্যে তাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করতে এসেছিলেন যাদের কাছে ভাল কাজের একটি হাল্কা ভারসাম্য আছে I তিনি সুসমাচারের মধ্যে বললেন যে 

৩৫ যীশু তাদের বললেন, আমিই হলাম সেই জীবনের রুটি। যে আমার কাছে আসে তার আর খিদে হবে না এবং যে আমার উপর বিশ্বাস করে তার আর কখনো পিপাসা পাবে না।

৩৬ যদিও আমি তোমাদের বলেছি যে, তোমরা আমাকে দেখেছ এবং এখনো বিশ্বাস কর না।

৩৭ পিতা যে সব আমাকে দেন সে সব আমার কাছেই আসবে এবং যে আমার কাছে আসবে তাকে আমি কোন ভাবেই বাইরে ফেলে দেবো না।

৩৮ কারণ আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি আমার ইচ্ছা পূরণ করার জন্য নয় কিন্তু তাঁরই ইচ্ছা পূরণ করার জন্য, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।

৩৯ এবং যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা হলো যে তিনি আমাকে যে যাদের দিয়েছেন, তার কিছুই যেন না হারাই, কিন্তু শেষ দিনের যেন তাদের জীবিত করে তুলি।

৪০ কারণ আমার পিতার ইচ্ছা হলো, যে কেউ পুত্রকে দেখে এবং তাঁতে বিশ্বাস করে সে যেন অনন্ত জীবন পায় এবং আমিই তাকে শেষ দিনের জীবিত করব।

৪১ তখন ইহূদি নেতারা তাঁর সম্পর্কে বকবক করতে লাগল, কারণ তিনি বলেছিলেন, “আমিই সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে।”

৪২ তারা বলল, এ যোষেফের পুত্র সেই যীশু নয় কি, যার পিতা মাতাকে আমরা জানি? এখন সে কেমন করে বলে, আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি? 

৪৩ যীশু উত্তর দিয়ে তাদেরকে বললেন, তোমরা নিজেদের মধ্যে বকবক করা বন্ধ কর।

৪৪ কেউ আমার কাছে আসতে পারবে না যতক্ষণ না পিতা যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন ও তিনি আকর্ষণ করছেন, আর আমি তাকে শেষ দিনের জীবিত করে তুলবো।

৪৫ ভাববাদীদের বইতে লেখা আছে, “তারা সবাই ঈশ্বরের কাছে শিক্ষা পাবে।” যে কেউ পিতার কাছে শুনে শিক্ষা পেয়েছে, সেই আমার কাছে আসে।

৪৬ কেউ যে পিতাকে দেখেছে তা নয়, শুধুমাত্র যিনি ঈশ্বর থেকে এসেছেন কেবল তিনিই পিতাকে দেখেছেন।

৪৭ সত্য, সত্যই বলছি যে বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন পায়।

৪৮ আমিই জীবনের রুটি।

৪৯ তোমাদের পূর্বপুরুষেরা মরূপ্রান্তে মান্না খেয়েছিল এবং তারা মরে গিয়েছে।

৫০ এই হলো সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে যেন মানুষেরা এর কিছুটা খায় এবং না মরে।

৫১ আমিই সেই জীবন্ত রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে। কেউ যদি এই রুটি র কিছুটা খায় তবে সে চিরকাল জীবিত থাকবে। আমি যে রুটি দেব সেটা আমার মাংস, পৃথিবীর মানুষের জীবনের জন্য।

যোহন ৬:৩৫-৫১

নবি ঈসা আল মসীহ দাবি করেছিলেন যে তিনি ‘স্বর্গ থেকে নেমে এসেছিলেন’ এবং যে তিনি যে কোনো কাউকে ‘অনন্ত জীবন’ দেবেন যারা তাকে বিশ্বাস করে I যে ইহূদিরা তার কথা শুনল তারা দাবি করল তিনি তার কর্ত্তৃত্বের প্রমাণ দিন I নবী পূর্ববর্তী নবীদের উল্লেখ করলেন যারা তার আগমন এবং কর্ত্তৃত্বের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I আমরা দেখতে পারি কিভাবে মুসার তাওরাত তার আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং এছাড়াও মুসা (আঃ) এর পরে নবীরাও I তবে ‘তাকে বিশ্বাস করা’ বলতে কি বোঝায়? আমরা এটিকে এখানে দেখি I  

এছাড়াও ঈসা আল মসীহ নিরাময়ের চিহ্ন সমুহের মাধ্যমে এবং প্রকৃতির উপরে তাঁর কর্ত্তৃত্ব দেখিয়েছিলেন I তিনি তাঁর শিক্ষায় ব্যাখ্যা করেছিলেন I 

১৪ যখন উত্সবের অর্ধেক দিন পার হয়ে গেল তখন যীশু উপাসনা ঘরে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন। 

১৫ ইহূদিরা আশ্চর্য্য হয়ে গেল এবং বলতে লাগলো, এই মানুষটি শিক্ষা না নিয়ে কিভাবে এই রকম শাস্ত্র জ্ঞানী হয়ে উঠল? 

১৬ যীশু তাদেরকে উত্তর দিয়ে বললেন, আমার শিক্ষা আমার নয় কিন্তু তাঁর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।

১৭ যদি কেউ তাঁর ইচ্ছা পালন করবে মনে করে, সে এই শিক্ষার বিষয় জানতে পারবে, এই সকল ঈশ্বর থেকে এসেছে কিনা, না আমি নিজের থেকে বলি।

১৮ যারা নিজের থেকে বলে তারা নিজেদেরই গৌরব খোঁজ করে কিন্তু যারা তাঁর সম্মান খোঁজ করে যিনি তাদের পাঠিয়েছেন তিনিই সত্য এবং তাঁতে কোন অধর্ম্ম নেই।

১৯ মোশি কি তোমাদেরকে কোনো নিয়ম কানুন দেননি? যদিও তোমাদের মধ্যে কেউই এখনো সেই নিয়ম পালন করে না। কেন তোমরা আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছ?

২০ সেই মানুষের দল উত্তর দিল, তোমাকে ভূতে ধরেছে, কে তোমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে? 

২১ যীশু উত্তর দিয়ে তাদেরকে বললেন, আমি একটা কাজ করেছি, আর সেজন্য তোমরা সকলে আশ্চর্য্য হচ্ছ।

২২ মোশি তোমাদেরকে ত্বকছেদ করার নিয়ম দিয়েছেন, তা যে মোশি থেকে নয় কিন্তু পূর্বপুরুষদের থেকে হয়েছে এবং তোমরা বিশ্রামবারে শিশুদের ত্বকছেদ করে থাক।

২৩ মোশির নিয়ম যেন না ভাঙে সেইজন্য যদি বিশ্রামবারে মানুষের ত্বকছেদ করা হয়, তবে আমি বিশ্রামবারে একজন মানুষকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করেছি বলে আমার উপরে কেন রাগ করছ?

২৪ বাইরের চেহারা দেখে বিচার করো না কিন্তু ন্যায়ভাবে বিচার কর।

২৫ যিরূশালেম বসবাসকারীদের মধ্যে থেকে কয়েক জন বলল, এই কি সে নয় যাকে তারা মেরে ফেলার চেষ্টা করছিল? 

২৬ আর দেখ, সে তো খোলাখুলি ভাবে কথা বলছে আর তারা ওনাকে কিছুই বলছে না। কারণ এটা হতে পারে না যে শাসকেরা জানত যে ইনিই সেই খ্রীষ্ট, তাই নয় কি? 

২৭ কিন্তু আমরা জানি এই মানুষটি কোথা থেকে এলো; কিন্তু খ্রীষ্ট যখন আসেন তখন তিনি কোথা থেকে আসেন তা কেউ জানে না। 

২৮ যীশু মন্দিরে খুব চিত্কার করে উপদেশ দিলেন এবং বললেন, তোমরা আমাকে চেন এবং আমি কোথা থেকে এসেছি তাও জান। আমি নিজে থেকে আসিনি কিন্তু আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি সত্য যাকে তোমরা চেন না।

২৯ আমি তাঁকে জানি কারণ আমি তাঁর কাছ থেকে এসেছি এবং তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন।

৩০ তারা তাঁকে ধরার জন্য চেষ্টা করছিল কিন্তু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিল না কারণ তখনও তাঁর সেই দিন আসেনি। 

৩১ যদিও মানুষের দলের মধ্যে থেকে অনেকে তাঁতে বিশ্বাস করল এবং বলল, খ্রীষ্ট যখন আসবেন তখন এই মানুষটির করা কাজ থেকে কি তিনি বেশি আশ্চর্য্য কাজ করবেন? 

৩২ ফরীশীরা তাঁর সম্পর্কে জনগনের মধ্যে এই সব কথা ফিসফিস করে বলতে শুনল এবং প্রধান যাজকেরা ও ফরীশীরা তাঁকে ধরে আনবার জন্য কয়েক জন আধিকারিককে পাঠিয়ে দিল। 

৩৩ তখন যীশু বললেন, আমি এখন অল্প দিনের জন্য তোমাদের সঙ্গে আছি এবং তারপর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে চলে যাব।

৩৪ তোমরা আমাকে খোঁজ করবে কিন্তু আমাকে পাবে না; আমি যেখানে যাব সেখানে তোমরা আসতে পারবে না।

৩৫ তখন ইহূদিরা একে অপরকে বলতে লাগল, এই মানুষটি কোথায় যাবে যে আমরা তাকে খুঁজে পাব না? তিনি কি গ্রীকদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন ইহূদি মানুষের কাছে যাবে এবং সেই সকল মানুষদের শিক্ষা দেবেন? 

৩৬ তিনি যে কথা বললেন, “আমার খোঁজ করবে কিন্তু আমাকে পাবে না এবং আমি যেখানে যাই সেখানে তোমরা আসতে পারবে না” এটা কি কথা? 

৩৭ এখন শেষ দিন, উত্সবের মহান দিন, যীশু দাঁড়িয়ে চিত্কার করে বললেন, কারুর যদি পিপাসা পায় তবে আমার কাছে এসে পান করুক।

৩৮ যে কেউ আমাতে বিশ্বাস করে, যেমন শাস্ত্রে বলা আছে, তার হৃদয়ের মধ্য থেকে জীবন জলের নদী বইবে।

৩৯ কিন্তু তিনি পবিত্র আত্মার সমন্ধে এই কথা বললেন, যারা তাঁতে বিশ্বাস করত তারা সেই আত্মাকে পাবে, তখনও সেই আত্মা দেওয়া হয়নি কারণ সেই দিন পর্যন্ত যীশুকে মহিমান্বিত করা হয়নি। 

৪০ যখন জনগনের মধ্য থেকে অনেকে এই কথা শুনল তখন তারা বলল ইনি সত্যিই সেই ভাববাদী। 

৪১ অনেকে বলল, ইনি হলেন সেই খ্রীষ্ট। কিন্তু কেউ কেউ বলল, কেন? খ্রীষ্ট কি গালীল থেকে আসবেন? 

৪২ শাস্ত্রের বাক্যে কি বলে নি, খ্রীষ্ট দায়ূদের বংশ থেকে এবং দায়ূদ যেখানে ছিলেন সেই বৈৎলেহম গ্রাম থেকে আসবেন? 

৪৩ এই ভাবে জনগনের মধ্যে যীশুর বিষয় নিয়ে মতভেদ হলো। 

৪৪ তাদের মধ্যে কিছু লোক তাঁকে ধরবে বলে ঠিক করলো কিন্তু তার গায়ে কেউই হাত দিল না।

যোহন ৭:১৪-৪৪

জীবন্ত জল সম্পর্কে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা ছিল আত্মা, যিনি পেন্টেকোষ্টে এসেছিলেন, এবং এখন বিচারের দিনের মৃত্যু থেকে আমাদের রক্ষা করতে বিনামূল্যে জীবন দেন I আমাদেরকে কেবলমাত্র আমাদের তৃষ্ণাকে স্বীকার করতে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *